দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজায় ঘোষিত ‘যুদ্ধবিরতি’ ও ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ব্যবস্থার মধ্যেও বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সর্বশেষ হামলায় খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি অস্থায়ী তাঁবুতে ড্রোন হামলায় এক ভাই ও এক বোন নিহত হয়েছেন।
চিকিৎসা সূত্র জানায়, নিহতরা হলেন ১৫ বছর বয়সী ইসলাম মুসা ও তার ৩০ বছর বয়সী ভাই আবদুল্লাহ মুসা। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, হামলার স্থান থেকে আহত আরও সাতজনকে উদ্ধার করে নাসের হাসপাতাল ও রেড ক্রস হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এর আগে দক্ষিণ গাজায় পৃথক এক ইসরায়েলি হামলায় আহত ১০ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু ওয়ালিদ ইউসুফ আবু জাজার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। নাসের হাসপাতালের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
অন্যদিকে গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতেও হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। আল-শিফা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের অধিকাংশই নারী এবং দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আল জাজিরার গাজা সিটি প্রতিনিধি তারেক আবু আজ্জুম জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রেখেছে। আল-মাওয়াসি, যেটিকে যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী হাজারো বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ঘোষণা করা হয়েছিল, সেখানেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, আকাশে এখনো ইসরায়েলি ড্রোনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু। প্রতিবেদনের সহ-প্রণেতা ক্রিস সিডোটি বলেন, এ তথ্য ‘অত্যন্ত হৃদয়বিদারক’ এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর আইনগত দায়িত্ব রয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৪৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭৩ হাজার ৪১৭ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া গত বছরের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে নতুন করে এক হাজার ৩১ জন নিহত এবং তিন হাজার ৩০৯ জন আহত হয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/